Prarthona Kobita Line by Line


দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টারের জন্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পাঠ্য। এই কবিতায় কবি পরাধীন ভারতবর্ষের গ্লানি মুছে এক নতুন, আদর্শ ভারতবর্ষের স্বপ্ন দেখেছেন। নিচে তোমাদের সুবিধার জন্য প্রতিটি চরণের সহজ ও গভীর ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।

কবিতা বিশ্লেষণের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব

কবিতার লাইন ধরে বিশ্লেষণ করলে কেবল শব্দের অর্থ নয়, কবির লুকানো আবেগও বোঝা যায়। এটি তোমাদের পরীক্ষার বড় প্রশ্নগুলোর উত্তর নির্ভীকভাবে লিখতে সাহায্য করবে এবং কবিতার অন্তর্নিহিত দর্শনকে মনের গভীরে অনুভব করতে শেখাবে।

কবিতার মূল ভাবনা (Central Theme)

‘প্রার্থনা’ কবিতাটি মূলত একটি ‘দেশাত্মবোধক প্রার্থনা’। কবি এখানে এক এমন ভারতবর্ষ গড়তে চেয়েছেন যেখানে মানুষ হবে মুক্তমনা, নির্ভীক এবং যুক্তিবাদী। তিনি সংকীর্ণতার গণ্ডি পেরিয়ে এক উদার বিশ্বজনীন মানবতার জয়গান গেয়েছেন।


লাইন ধরে সহজ ব্যাখ্যা (Line-by-Line Analysis)

1. "চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির"
কবি এমন এক দেশের প্রার্থনা করছেন যেখানে প্রতিটি মানুষের মন হবে ভয়হীন। পরাধীনতার গ্লানিতে মানুষ যেন কুঁকড়ে না থাকে, বরং আত্মমর্যাদার সাথে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে।
2. "জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর / আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী / বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি"
শিক্ষা বা জ্ঞান যেন কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বা জাতি-ধর্মের প্রাচীরে আটকে না থাকে। মানুষ যেন ছোট ছোট স্বার্থ বা দলগত বিভেদ দিয়ে গোটা পৃথিবীকে (বসুধা) টুকরো টুকরো করে না ফেলে।
3. "যেথা বাক্য হৃদয়ের উৎসমুখ হতে / উচ্ছ্বসিয়া উঠে"
মানুষের কথা যেন কেবল মুখের শব্দ না হয়, তা যেন সরাসরি হৃদয় থেকে আসা পরম সত্য হয়। সমাজে যেন কোনো কপটতা বা মিথ্যার স্থান না থাকে।
4. "যেথা নির্ধারিত স্রোতে / দেশে দেশে দিশে দিশে কর্মধারা ধায় / অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়—"
মানুষ যেন অলস বসে না থেকে বিরামহীন কর্মের মাধ্যমে নিজেকে সার্থক করে তোলে। প্রতিটি মানুষের কাজের ধারা যেন মঙ্গলের পথে ধাবিত হয়ে পূর্ণতা পায়।
5. "যেথা তুচ্ছ আচারের মরু বালুরাশি / বিচারের স্রোতঃপথ ফেলে নাই গ্রাসি"
মরুভূমির বালি যেমন নদীর প্রবাহকে থামিয়ে দেয়, তেমনি অর্থহীন ‘তুচ্ছ আচার’ বা অন্ধ কুসংস্কার যেন মানুষের যুক্তিবোধ ও বিচারবুদ্ধিকে থামিয়ে না দেয়। মানুষ যেন বিচার দিয়ে সত্যকে গ্রহণ করে।
6. "পৌরুষেরে করে নি শতধা; নিত্য যেথা / তুমি সর্ব কর্ম চিন্তা আনন্দের নেতা—"
মানুষের আত্মবিশ্বাস বা পৌরুষ যেন ছোটখাটো মোহে বিভক্ত (শতধা) না হয়। মানুষের চিন্তা ও আনন্দের কেন্দ্রবিন্দুতে যেন সর্বদা সত্য ও সুন্দরের অধিষ্ঠান থাকে।
7. "নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি, পিতঃ, / ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত।"
কবি পরম পিতাকে (ঈশ্বরকে) বলছেন, ভারতবাসী যদি মোহাচ্ছন্ন হয়ে ঘুমিয়ে থাকে, তবে প্রয়োজনে তাদের ‘নির্দয় আঘাত’ করে জাগিয়ে তোলো। ভারতকে যেন এক পরাধীনতার নরক থেকে স্বাধীনতার আদর্শ স্বর্গে পৌঁছে দেওয়া হয়।


এই কবিতা পড়ে একজন ছাত্রের কেমন হওয়া উচিত?

  • নির্ভীকতা: ছাত্রছাত্রীদের উচিত যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো এবং ভয়কে জয় করা।
  • উদারতা: সংকীর্ণ জাতিভেদ বা ধর্মভেদ ভুলে গিয়ে সবাইকে মানুষ হিসেবে সম্মান করা এবং বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা।
  • যুক্তিবাদী মন: কোনো কিছু অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে নিজের বিচারবুদ্ধি ও যুক্তি দিয়ে সেটিকে যাচাই করা উচিত।
  • সততা: কথা ও কাজের মধ্যে যেন কোনো ফাঁক না থাকে; সব সময় হৃদয়ের সত্যকে প্রকাশ করার সাহস রাখা উচিত।

উপসংহার

রবীন্দ্রনাথের ‘প্রার্থনা’ কেবল ভারতবর্ষের জন্য নয়, এটি প্রতিটি মানুষের আত্মিক মুক্তির গান। এই কবিতাটি বুঝে পড়লে তোমাদের সাহিত্যিক রুচি যেমন উন্নত হবে, তেমনি একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার অনুপ্রেরণা পাবে। পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই গভীর অর্থগুলো মাথায় রাখলে তোমরা অনেক ভালো নম্বর পেতে পারবে।

কবিতার সম্পূর্ণ নোট এবং প্রশ্নোত্তর: Click Here

Study Notes PDF

Download this article for offline study

SPN EDTECH
Updates Courses Notes eBooks Login