Taruner Swapno 2025 Tab & Smartphone

তরুণের স্বপ্ন প্রকল্প ২০২৫: ট্যাব বা মোবাইলের ১০,০০০ টাকা

আজকের যুগে পড়াশোনা আর শুধুমাত্র খাতা-কলমে সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইন ক্লাস, নোটস সংগ্রহ এবং ডিজিটাল রিসোর্স ব্যবহারের জন্য স্মার্টফোন বা ট্যাব অপরিহার্য। এই প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুরু হয়েছিল ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ও সুবিধা

এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির (Class XI & XII) ছাত্রছাত্রীদের ডিজিটাল ডিভাইসের অভাব দূর করা।

  • আর্থিক অনুদান: যোগ্য ছাত্রছাত্রীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ₹১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা পাঠানো হয়।
  • ব্যবহার: এই টাকা দিয়ে পড়ুয়ারা তাদের পছন্দমতো স্মার্টফোন (Smartphone), ট্যাব (Tablet) বা ল্যাপটপের অংশবিশেষ কিনতে পারে।
  • পদ্ধতি: টাকাটি দেওয়া হয় DBT (Direct Benefit Transfer)-এর মাধ্যমে, অর্থাৎ কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি ট্রেজারি থেকে ছাত্র বা ছাত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়।


২০২৫ সালে কারা এই টাকা পাচ্ছে? (Eligibility Criteria)

সবাই কিন্তু এই টাকা পাওয়ার যোগ্য নয়। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলেই স্কুল থেকে আপনার নাম পোর্টালে তোলা হয়:

১. শিক্ষাবর্ষ: ছাত্র বা ছাত্রীকে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের অধীনস্থ কোনো সরকারি বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণিতে (বা কিছু ক্ষেত্রে একাদশ শ্রেণিতে, বছরের নিয়ম অনুযায়ী) পাঠরত হতে হবে।

২. বসবাস: আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

৩. পারিবারিক আয়: যদিও এটি মূলত মেরিট কাম মিনস বা সব ছাত্রছাত্রীদের জন্যই প্রযোজ্য, তবুও পারিবারিক বাৎসরিক আয়ের একটি নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা (সাধারণত ২ লক্ষ টাকার নিচে) দেখা হয়, তবে সরকারি স্কুলের অধিকাংশ পড়ুয়াই এর আওতায় পড়ে।

৪. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: ছাত্র বা ছাত্রীর নিজের নামে একটি সক্রিয় (Active) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং সেটি অবশ্যই আধার কার্ডের সাথে লিঙ্ক করা থাকতে হবে।


২০২৫-এ টাকা ঢুকতে দেরি হচ্ছে কেন? (Real Reason Behind Delay)

অনেক ছাত্রছাত্রী চিন্তায় আছে কারণ তাদের স্কুলের বন্ধু হয়তো টাকা পেয়ে গেছে, কিন্তু তারা পায়নি। অনেকে ভাবছেন তাদের নাম হয়তো বাতিল হয়ে গেছে। কিন্তু ভয়ের কোনো কারণ নেই, আপনার টাকা বাতিল হয়নি।

২০২৫ সালে টাকা ঢুকতে দেরি হওয়ার প্রধান কিছু বাস্তব কারণ নিচে আলোচনা করা হলো:

💠 Phase-wise Disbursement (ধাপে ধাপে টাকা প্রদান):

সরকার একসঙ্গে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে টাকা পাঠাতে পারে না। তাই জেলাভিত্তিক বা স্কুলভিত্তিক ‘লট’ (Lot) বা ধাপে ধাপে টাকা ছাড়া হচ্ছে। আজ হয়তো উত্তর ২৪ পরগনার কিছু স্কুল পেল, কাল হয়তো বাঁকুড়া বা মেদিনীপুরের স্কুল পাবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।

💠 Strict Document Verification (কঠোর যাচাইকরণ):

বিগত বছরগুলোতে কিছু জালিয়াতির ঘটনা বা হ্যাকিংয়ের খবর সামনে আসায় সরকার এবার অনেক বেশি সতর্ক। ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টালে (Banglar Shiksha Portal) ছাত্রছাত্রীদের ডেটা আপলোডের পর তা একাধিক স্তরে (School level -> SI level -> DI level) ভেরিফাই করা হচ্ছে। এই কড়াকড়ির জন্য প্রসেসিংয়ে সময় লাগছে।

💠 OTP & Bank Validation Issues:

এ বছর অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার লিঙ্কিং এবং কেওয়াইসি (KYC) স্ট্যাটাস খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাদের ব্যাংকের আইএফএসসি (IFSC) কোড বদলে গেছে (ব্যাংক মার্জ হওয়ার কারণে) অথবা অ্যাকাউন্ট ‘ডরম্যান্ট’ (Dormant) হয়ে আছে, তাদের পেমেন্ট আটকে যাচ্ছে বা ‘Transaction Failed’ দেখাচ্ছে।

💠 Technical Glitch:

মাঝেমধ্যে সার্ভারের সমস্যার কারণেও পেমেন্ট প্রসেসিং ধীরগতিতে এগোয়। ট্রেজারি থেকে টাকা রিলিজ হলেও ব্যাংকের সার্ভার ডাউন থাকলে মেসেজ আসতে দেরি হতে পারে।


আবেদন থেকে টাকা পাওয়া: পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করে?

ছাত্রছাত্রীদের নিজের থেকে কোথাও গিয়ে ফর্ম ফিলাপ করতে হয় না, পুরো কাজটি স্কুল কর্তৃপক্ষ করে থাকে।

  1. Data Collection: স্কুলের ক্লাস টিচাররা ছাত্রছাত্রীদের থেকে তাদের বর্তমান ব্যাংক ডিটেইলস, আধার নম্বর এবং ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন।
  2. Portal Entry: স্কুল কর্তৃপক্ষ ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টালে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর তথ্য আপলোড করেন।
  3. Verification: এরপর সেই তথ্য ডিআই (District Inspector of Schools) অফিসে ভেরিফিকেশনের জন্য যায়। সেখানে সব ঠিক থাকলে তা রাজ্য স্তরে পাঠানো হয়।
  4. Fund Release: রাজ্য থেকে অনুমোদন মিললে সরাসরি ট্রেজারি থেকে বেনিফিশিয়ারির অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ টাকা ক্রেডিট হয়।


টাকা এখনো না ঢুকলে ছাত্রছাত্রীদের কী করণীয়?

যদি আপনি এখনো টাকা না পেয়ে থাকেন, তবে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন:

📌 ধাপ ১: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চেক করুন

সবার আগে ব্যাংকে গিয়ে দেখুন আপনার অ্যাকাউন্টটি ‘Active’ আছে কিনা। অনেকদিন লেনদেন না করলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। প্রয়োজনে ১০০ টাকা জমা বা তুলে অ্যাকাউন্টটি সচল করুন।

📌 ধাপ ২: আধার-ব্যাংক লিঙ্ক (DBT Link)

ব্যাংকে গিয়ে নিশ্চিত করুন যে আপনার অ্যাকাউন্টে NPCI Link বা DBT Link করা আছে। কারণ সরকারি টাকা শুধুমাত্র আধার লিঙ্কড অ্যাকাউন্টিং ঢুকবে।

📌 ধাপ ৩: স্কুলের সাথে যোগাযোগ

আপনার ব্যাংক সব ঠিক থাকলে, স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের সাথে কথা বলুন। তাদের জিজ্ঞাসা করুন পোর্টালে আপনার নামের পাশে স্ট্যাটাস কী দেখাচ্ছে।

  • যদি 'Pending at DI' দেখায়, তবে অপেক্ষা করুন, টাকা ঢুকবে।
  • যদি 'Invalid Bank Account' বা কোনো এরর দেখায়, তবে অবিলম্বে সঠিক পাসবুক জেরক্স স্কুলে জমা দিন।

📌 ধাপ ৪: ধৈর্য ধরুন

মনে রাখবেন, এটি একটি সরকারি প্রসেস। আপনার যদি সব ডকুমেন্ট সঠিক থাকে এবং নাম পোর্টালে রেজিস্টার্ড থাকে, তবে আপনি টাকা পাবেনই। দেরি হতে পারে, কিন্তু টাকা বাতিল হবে না।


সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: আমি কি ১০,০০০ টাকার বেশি দামের ফোন কিনতে পারি?

উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই। সরকার আপনাকে ১০,০০০ টাকা সহায়তা দিচ্ছে। আপনি চাইলে নিজের থেকে আরও ৫,০০০ টাকা দিয়ে ১৫,০০০ টাকার ফোনও কিনতে পারেন।

প্রশ্ন: টাকা পাওয়ার পর কি বিল জমা দিতে হবে?

উত্তর: হ্যাঁ, নিয়ম অনুযায়ী আপনি যে ডিভাইসটি (ট্যাব বা ফোন) কিনবেন, তার জিএসটি (GST) যুক্ত পাকা বিল বা রসিদ স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দিতে হয়। এটি প্রমাণ হিসেবে স্কুলে রাখা থাকে।

প্রশ্ন: আমার ফোনে মেসেজ আসেনি, আমি কী করব?

উত্তর: অনেক সময় ব্যাংকের সার্ভার সমস্যার কারণে ফোনে এসএমএস আসে না, কিন্তু অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যায়। তাই মেসেজের ভরসায় না থেকে সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে পাসবুক আপডেট করে ব্যালেন্স চেক করুন।

প্রশ্ন: অ্যাকাউন্ট অন্য কারোর দিলে হবে?

উত্তর: না। টাকা শুধুমাত্র ছাত্র বা ছাত্রীর নিজের নামের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। বাবা-মায়ের অ্যাকাউন্টে এই টাকা ঢুকবে না।


উপসংহার

‘তরুণের স্বপ্ন’ বা ট্যাব প্রকল্পের এই টাকা ছাত্রছাত্রীদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। ২০২৫ সালে যারা এখনো টাকা পাননি, তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। রাজ্য জুড়ে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া চলছে এবং ধাপে ধাপে ফান্ড রিলিজ করা হচ্ছে। আপনি শুধু নিশ্চিত করুন যে আপনার ব্যাংকের তথ্য সঠিক আছে এবং স্কুলের খাতায় আপনার নাম নথিভুক্ত আছে। ডিজিটাল শিক্ষার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আপনার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

(এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ তথ্যভিত্তিক এবং ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করার উদ্দেশ্যে লেখা। সর্বশেষ আপডেটের জন্য সর্বদা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখুন।)

Study Notes PDF

Download this article for offline study

SPN EDTECH
Updates Courses Notes eBooks Login