WB Scholarships 2026: Govt & Private List

West Bengal Scholarships 2025-26

পশ্চিমবঙ্গ স্কলারশিপ ২০২৫-২৬: সরকারি ও বেসরকারি স্কলারশিপের সম্পূর্ণ তালিকা ও আবেদন পদ্ধতি

পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য উচ্চশিক্ষা এখন আর কেবল স্বপ্ন নয়। রাজ্য সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার স্কলারশিপ প্রদান করে। আপনি স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হোন না কেন, আপনার জন্য কোনো না কোনো স্কলারশিপ অবশ্যই রয়েছে। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা পশ্চিমবঙ্গের সেরা Government (সরকারি) এবং Private (বেসরকারি) স্কলারশিপের যোগ্যতা, টাকার পরিমাণ এবং আবেদন পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

১. স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিনস স্কলারশিপ (SVMCM)

এটি পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রধান সরকারি স্কলারশিপ। মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তার জন্য এটি প্রদান করা হয়।

  • যোগ্যতা: মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকে অন্তত ৬০% নম্বর (আগে এটি ৭৫% ছিল)। স্নাতকোত্তরের ক্ষেত্রে স্নাতক স্তরে ৫৩% নম্বর প্রয়োজন।
  • পারিবারিক আয়: বার্ষিক ২,৫০,০০০ টাকার কম হতে হবে।
  • টাকার পরিমাণ: কোর্স অনুযায়ী মাসে ১,০০০ টাকা থেকে ৮,০০০ টাকা পর্যন্ত (বছরে ১২,০০০ - ৯৬,০০০ টাকা)।
  • অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: svmcm.wb.gov.in

২. নবান্ন স্কলারশিপ (CM Relief Fund Scholarship)

মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে এই স্কলারশিপটি দেওয়া হয়। যারা স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের জন্য যোগ্য নন (যাদের নম্বর ৬০%-এর কম), তারা এখানে আবেদন করতে পারেন।

  • যোগ্যতা: পূর্ববর্তী পরীক্ষায় ৫০% থেকে ৬০% নম্বর পেতে হবে।
  • পারিবারিক আয়: বার্ষিক ১,২০,০০০ টাকার বেশি হওয়া চলবে না।
  • টাকার পরিমাণ: এককালীন ১০,০০০ টাকা।
  • আবেদন পদ্ধতি: বর্তমানে অফলাইন এবং অনলাইন দুই মাধ্যমেই আবেদন করা যায়।

৩. ঐকশ্রী স্কলারশিপ (Aikyashree Scholarship)

পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু (মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন ও পার্সি) ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এই বিশেষ স্কলারশিপ প্রকল্প।

  • বিভাগ: প্রি-মেট্রিক (১ম-১০ম), পোস্ট-মেট্রিক (১১শ-পিএইচডি) এবং মেরিট কাম মিনস।
  • যোগ্যতা: অন্তত ৫০% নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।
  • সুবিধা: টিউশন ফি এবং হোস্টেল ফি-র জন্য বড় অঙ্কের অনুদান দেওয়া হয় (সর্বোচ্চ ৩৩,০০০ টাকা পর্যন্ত)।
  • অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: wbmdfcscholarship.org

৪. ওএসিস স্কলারশিপ (Oasis Scholarship)

অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তর থেকে এসসি (SC), এসটি (ST) এবং ওবিসি (OBC) ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এই স্কলারশিপ দেওয়া হয়।

  • যোগ্যতা: শিক্ষার্থীকে অবশ্যই SC, ST বা OBC ক্যাটাগরির হতে হবে।
  • টাকার পরিমাণ: কোর্সের ধরন অনুযায়ী বার্ষিক ৩,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত।
  • প্রয়োজনীয় নথি: ডিজিটাল কাস্ট সার্টিফিকেট (Caste Certificate) বাধ্যতামূলক।

সেরা কয়েকটি বেসরকারি (Private) স্কলারশিপ

সরকারি স্কলারশিপের পাশাপাশি বহু বেসরকারি সংস্থা ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক সাহায্য প্রদান করে। নিচে তার বিস্তারিত দেওয়া হলো:

A. সীতারাম জিন্দাল স্কলারশিপ (Sitaram Jindal Scholarship)

এটি একটি অত্যন্ত বিশ্বস্ত বেসরকারি স্কলারশিপ যা সারা বছর আবেদন করা যায়।

  • যোগ্যতা: একাদশ শ্রেণী থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত যেকোনো ছাত্র-ছাত্রী আবেদন করতে পারেন। নম্বর পশ্চিমবঙ্গের জন্য সাধারণত ৭০%-৭৫% এর উপরে থাকা প্রয়োজন।
  • টাকার পরিমাণ: কোর্স ভেদে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত।

B. HDFC বাড়তে কদম স্কলারশিপ (HDFC Badhte Kadam)

এইচডিএফসি ব্যাংক মেধাবী ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এই স্কলারশিপ দেয়।

  • যোগ্যতা: নবম শ্রেণী থেকে স্নাতক স্তরের ছাত্রছাত্রীরা আবেদন করতে পারে। বিশেষ করে যারা কোনো সংকটের (পিতা-মাতার মৃত্যু বা আর্থিক দুর্যোগ) সম্মুখীন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
  • টাকার পরিমাণ: ১৫,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত।

C. রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ (Reliance Foundation Scholarship)

স্নাতক (Undergraduate) স্তরের প্রথম বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্কলারশিপ প্রদান করে। এর জন্য একটি অনলাইন অ্যাপটিটিউড টেস্ট দিতে হয়।

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Important Documents)

যেকোনো স্কলারশিপে আবেদনের জন্য নিচের নথিগুলি তৈরি রাখুন:

  1. শেষ পরীক্ষার মার্কশিট (উভয় দিক)।
  2. পারিবারিক আয়ের সার্টিফিকেট (Income Certificate - সাধারণত বিডিও বা এসডিও দ্বারা অনুমোদিত)।
  3. আধার কার্ড এবং ব্যাঙ্কের পাসবুক (নিজের নামে অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে)।
  4. বর্তমান কোর্সের ভর্তির রশিদ।
  5. ঠিকানার প্রমাণপত্র (Domicile Certificate)।

সতর্কতা ও টিপস

১. মনে রাখবেন, সাধারণত একসাথে দুটি সরকারি স্কলারশিপের টাকা পাওয়া যায় না। তবে আপনি একটি সরকারি ও একটি বেসরকারি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন (নির্দেশিকা সাপেক্ষে)।
২. ফরম ফিলাপের সময় ব্যাঙ্কের আইএফএসসি (IFSC) কোড এবং অ্যাকাউন্ট নম্বর বারবার চেক করবেন।
৩. আধার কার্ডের সাথে মোবাইল নম্বর লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক কারণ ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশন প্রয়োজন হয়।

শিক্ষা সংক্রান্ত আরও আপডেটের জন্য আমাদের ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত থাকুন। এই আর্টিকেলটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন যাতে তারাও এই সুযোগের সুবিধা নিতে পারে।

Study Notes PDF

Download this article for offline study

SPN EDTECH
Updates Courses Notes eBooks Login