🚨 রাজ্যে শিক্ষাপর্ষদে বড়সড় রদবদল! হঠাৎ ইস্তফা দিলেন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি, নতুন দায়িত্বে কে?
রাজ্যে একদিকে যখন তীব্র গরমের কারণে স্কুলগুলির সময়সূচি পরিবর্তন এবং মর্নিং স্কুল চলবে কি না তা নিয়ে নানা জল্পনা ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পাচ্ছে, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা দপ্তরে ঘটে গেল আরও একটি বড়সড় এবং অভাবনীয় রদবদল! পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE)-এর শীর্ষ পদে এল আকস্মিক পরিবর্তন।
গত ১১ই জুন, ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের (School Education Department, Secondary Branch) তরফ থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নির্দেশিকা (Order) প্রকাশ করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ডঃ পার্থ কর্মকার। এই আকস্মিক পদত্যাগের কারণ কী, এবং সংসদের নতুন দায়িত্ব কে নিচ্ছেন, সেই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আজকের এই আর্টিকেলে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো।
১. অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তির মূল বিষয়বস্তু (Key Highlights of the Order)
বিকাশ ভবনের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের জারি করা মেমো নম্বর 697-SE/S/8C-01/2026 অনুযায়ী, এই রদবদলটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির মূল পয়েন্টগুলি নিচে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো:
- সভাপতির ইস্তফা: উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের বর্তমান সভাপতি (President) ডঃ পার্থ কর্মকার (WBES) গত ১১ই জুন, ২০২৬ তারিখে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন।
- ইস্তফা গ্রহণ: পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ আইন, ১৯৭৫-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী রাজ্যপাল এবং শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে তাঁর এই পদত্যাগপত্রটি অবিলম্বে (with immediate effect) গ্রহণ করা হয়েছে।
- পরবর্তী পোস্টিং: ডঃ পার্থ কর্মকারকে পরবর্তী নির্দেশ এবং নতুন দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য ডিপিআই (DPI - Director of Public Instruction)-এর অফিসে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২. উচ্চমাধ্যমিক সংসদের নতুন দায়িত্বে কে এলেন?
ডঃ পার্থ কর্মকারের ইস্তফার পর সংসদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদ যাতে এক মুহূর্তের জন্যও খালি না থাকে, তার জন্য শিক্ষা দপ্তর তড়িঘড়ি নতুন দায়িত্বভার অর্পণ করেছে।
অফিশিয়াল নির্দেশিকা অনুযায়ী, মসিউর রহমান সর্দার (Mosiur Rahaman Sardar, WBA & AS), যিনি বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের ডেপুটি সেক্রেটারি (Finance) হিসেবে কর্মরত আছেন, তাঁকে অবিলম্বে সভাপতির দায়িত্বভার (Take over the charge from the President) গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপাতত পরবর্তী স্থায়ী সভাপতি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনিই সংসদের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব সামলাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
৩. এই রদবদলের কারণ কী?
যদিও অফিশিয়াল নোটিশে ডঃ পার্থ কর্মকারের পদত্যাগের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, এটি একটি রুটিন বদলি বা প্রশাসনিক কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হতে পারে। ডঃ পার্থ কর্মকার, যিনি গণিতের একজন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, তাঁকে খুব শীঘ্রই শিক্ষা দপ্তরের অন্য কোনো বৃহত্তর বা ভিন্ন দায়িত্বে দেখা যেতে পারে, যে কারণেই তাঁকে DPI অফিসে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
৪. ছাত্রছাত্রী এবং সেমিস্টার সিস্টেমের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে?
উচ্চমাধ্যমিক স্তরে এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ নতুন সেমিস্টার সিস্টেম (Semester System) চালু হয়েছে। একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রম ও পরীক্ষা পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদের শীর্ষ পদে এমন পরিবর্তন দেখে অনেক ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এর ফলে কি পড়াশোনা বা পরীক্ষার শিডিউলে কোনো প্রভাব পড়বে?
৫. উপসংহার
রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখার জন্যই মাঝেমধ্যে এধরনের রদবদল করা হয়। আশা করা যায়, মসিউর রহমান সর্দারের দক্ষ পরিচালনায় উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের আগামী দিনের কাজকর্ম এবং নতুন সেমিস্টার সিস্টেমের বাস্তবায়ন আরও মসৃণভাবে সম্পন্ন হবে।
পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের (WBCHSE) যেকোনো নতুন বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষার আপডেট এবং সঠিক গাইডেন্স সবার আগে পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন SPN EdTech-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এবং যুক্ত থাকুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপগুলিতে!
Study Notes PDF
Download this article for offline study
Social Platforms