Bangla Probondho Suggestions

                                         

HS Semester 4 বাংলা: জীবনীমূলক প্রবন্ধ (Biography) লেখার গাইড ও সাজেশন ২০২৬

বাংলা প্রবন্ধ রচনার বিভিন্ন ধারার মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় এবং সহজ হলো জীবনীমূলক প্রবন্ধ। সঠিক তথ্য এবং নির্দিষ্ট কিছু কাঠামো অনুসরণ করলে এই বিভাগে ১০-এ ১০ পাওয়া খুব একটা কঠিন নয়। এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব কীভাবে একটি আকর্ষণীয় জীবনী লিখতে হয় এবং ২০২৬ সালের পরীক্ষার জন্য কোন কোন মণীষীর জীবনী সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।


১. জীবনীমূলক প্রবন্ধের আদর্শ কাঠামো

একটি সার্থক জীবনী কেবল তথ্যের সমাহার নয়, বরং এক মহান ব্যক্তির জীবনদর্শনের প্রতিফলন। জীবনী লেখার সময় নিচের অনুচ্ছেদগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজাতে হবে:

ক. ভূমিকা (Introduction)

রচনার শুরুতেই সেই মহান ব্যক্তির মহিমা বা সমাজে তাঁর চিরকালীন প্রভাব নিয়ে দুই-তিনটি বাক্য লেখো। তাঁর জন্মের গুরুত্ব বা তিনি কেন আজও স্মরণীয়, তা দিয়ে শুরু করা ভালো।

খ. জন্ম ও বংশপরিচয় (Birth & Parentage)

প্রশ্নে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁর সঠিক জন্ম তারিখ, সাল এবং জন্মস্থান উল্লেখ করো। তাঁর পিতা-মাতার নাম এবং পারিবারিক প্রেক্ষাপট এখানে তুলে ধরো।

গ. শৈশব ও শিক্ষাজীবন (Early Life & Education)

তিনি কোথায় প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে কোন বিদ্যাপীঠ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেছেন, তা স্পষ্টভাবে লেখো। তাঁর ছাত্রজীবনের কোনো বিশেষ কৃতিত্ব থাকলে তাও যোগ করো।

ঘ. কর্মজীবন ও সাধনা (Career & Achievements)

এটি প্রবন্ধের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর পেশা, সাহিত্যচর্চা, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বা সমাজ সংস্কারমূলক কাজ—যা যা তথ্য প্রশ্নে দেওয়া থাকবে, সেগুলোকে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করো। তাঁর শ্রেষ্ঠ কাজগুলোর নাম ও সাল নির্ভুলভাবে লেখার চেষ্টা করো।

ঙ. পুরস্কার ও সম্মাননা (Awards & Recognition)

জীবনকালে বা মরণোত্তর তিনি কী কী রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক সম্মান (যেমন— নোবেল, ভারতরত্ন, পদ্মবিভূষণ ইত্যাদি) পেয়েছেন, তা আলাদা প্যারাগ্রাফে লেখো।

চ. তিরোধান ও উপসংহার (Legacy & Conclusion)

শেষে তাঁর মৃত্যু তারিখ ও স্থানের উল্লেখ করো। তবে রচনার শেষ হওয়া উচিত তাঁর অমর কীর্তি এবং বর্তমান প্রজন্মের কাছে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে।


২. ২০২৬ পরীক্ষার জন্য সুপার সাজেশন (Top Biography Suggestions)

বিগত বছরের প্রবণতা এবং সিলেবাসের গুরুত্ব অনুযায়ী নিচের জীবনীগুলো খুব ভালো করে তৈরি করে রাখবে:

মণীষীর নামগুরুত্বের ক্ষেত্র
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরবিশ্বকবি ও বাঙালির সংস্কৃতির ধারক।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরশিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের অগ্রদূত।
কাজী নজরুল ইসলামবিদ্রোহী কবি ও সাম্যের প্রতীক।
এ. পি. জে. আব্দুল কালামভারতের মিসাইল ম্যান ও ছাত্রছাত্রীদের প্রেরণা।
স্বামী বিবেকানন্দআধ্যাত্মিকতা ও যুবশক্তির আদর্শ।
সত্যজিৎ রায়বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও সাহিত্যিক।
জীবনানন্দ দাশআধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম রূপকার।
বেগম রোকেয়ানারী শিক্ষার প্রসারে পথিকৃৎ।

৩. ১০-এ ১০ পাওয়ার বিশেষ গোপন টিপস (Pro-Tips)

১. প্রশ্নের তথ্য ব্যবহার: প্রশ্নে যে তথ্যগুলো দেওয়া থাকবে, তার একটিও যেন বাদ না পড়ে। প্রতিটি পয়েন্টকে অন্তত দুই থেকে তিনটি বাক্যে বিস্তৃত করো।

২. উক্তি বা কোটেশন: জীবনীর শুরুতে বা শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো বিখ্যাত উক্তি বা তাঁকে নিয়ে অন্য কারোর মহৎ কথা ব্যবহার করলে রচনার মান বহুগুণ বেড়ে যায়।

৩. ভাষা ও বানান: ভাষার গাম্ভীর্য বজায় রাখো। মণীষীদের জীবনীতে 'আপনি' বা সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। বানান ভুলের দিকে কড়া নজর দাও।

৪. পয়েন্টিং: প্রতিটি প্যারাগ্রাফের ওপর সুন্দর করে 'জন্ম পরিচয়', 'শিক্ষাজীবন'—এমন সাব-হেডিং দাও। এতে খাতা দেখতে পরীক্ষকের সুবিধা হয়।


উপসংহার:

জীবনীমূলক প্রবন্ধ মুখস্থ করার চেয়ে লেখার কৌশল রপ্ত করা বেশি কার্যকর। উপরে দেওয়া সাজেশনগুলো বাড়িতে পয়েন্ট ধরে প্র্যাকটিস করো, তাহলে পরীক্ষার হলে অজানা কোনো জীবনী দিলেও তোমরা অনায়াসেই লিখে আসতে পারবে।

এই গাইডটি ভালো লাগলে তোমার সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করো। পরবর্তী প্রতিটি জীবনীর আলাদা নোট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথেই থাকো।

Study Notes PDF

Download this article for offline study

SPN EDTECH
Updates Courses Notes eBooks Login