Madhyamik Pratibedan Suggestion


মাধ্যমিক প্রতিবেদন রচনা সাজেশন

মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার বাংলা প্রশ্নপত্রে 'প্রতিবেদন রচনা' বিভাগটি অত্যন্ত লাভজনক। এখানে মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ শব্দের মধ্যে সঠিক তথ্য পরিবেশন করতে পারলেই ৫-এ ৫ নম্বর পাওয়া যায়। প্রবন্ধের মতো দীর্ঘ সময় এখানে নষ্ট হয় না, তাই বুদ্ধিমতী ছাত্রছাত্রীরা সবসময় প্রতিবেদনকেই বেছে নেয়।

নিচে মাধ্যমিক ২০২৬-এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩টি প্রতিবেদন একদম আদর্শ কাঠামো ও বিস্তারিত তথ্যসহ আলোচনা করা হলো। এই উত্তরগুলো হুবহু খাতায় লিখতে পারলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া নিশ্চিত।


প্রতিবেদন ১ : আর জি কর কাণ্ড ও কর্মস্থলে নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ২১ জানুয়ারি ২০২৬: আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নারকীয় এবং বর্বরোচিত ঘটনা কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, সমগ্র বিশ্বের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৪-এর সেই অভিশপ্ত রাতের রেশ ২০২৬-এ এসেও ম্লান হয়নি। এই ঘটনাটি আধুনিক সমাজে নারীদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ যেভাবে দলমত নির্বিশেষে রাজপথে নেমেছিলেন এবং ‘রাত দখল’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন, তা ভারতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন গণআন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

বর্তমানে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি কোণ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং ডিউটি রুমে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। তবে আন্দোলনকারী চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের দাবি— কেবল সিসিটিভি বা নিরাপত্তা রক্ষী বাড়িয়ে লাভ নেই, যতক্ষণ না অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হচ্ছে এবং সমাজের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তন ঘটছে। প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে যে, নারীদের জন্য ‘সেফ জোন’ তৈরি করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিলোত্তমার বিচার এবং নারীদের নিরাপত্তা— এই দুই দাবিতে আজও সোচ্চার আপামর বাঙালি।


প্রতিবেদন ২ : প্লাস্টিক দূষণ রোধে ‘নির্মল বিদ্যালয়’ অভিযান ও পদযাত্রা

নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, ২০ জানুয়ারি ২০২৬: বর্তমান বিশ্বে পরিবেশের প্রধান শত্রু হলো ‘প্লাস্টিক’। এই মারণ দূষণ থেকে প্রকৃতিকে রক্ষা করতে গতকাল স্থানীয় বারাসাত আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এক বিশাল সচেতনতা শিবির ও বর্ণাঢ্য পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্লাস্টিক বর্জনের প্রয়োজনীয়তা ছড়িয়ে দেওয়া। বিদ্যালয়ের প্রায় এক হাজার ছাত্রছাত্রী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।

সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে এক পদযাত্রা শুরু হয়, যা এলাকার প্রধান পথগুলো পরিক্রমা করে। ছাত্রছাত্রীদের হাতে ছিল বিভিন্ন সৃজনশীল প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন, যাতে লেখা ছিল— “প্লাস্টিক মুক্ত মাটি, সুন্দর হোক বিশ্ব পরিপাটি”। পদযাত্রা শেষে বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বিশিষ্ট পরিবেশবিদগণ স্লাইড শো-এর মাধ্যমে দেখান কীভাবে প্লাস্টিক আমাদের জলজ প্রাণীকুলকে ধ্বংস করছে এবং মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে। অনুষ্ঠানের শেষে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণ করা হয় এবং শপথ নেওয়া হয় যে, বিদ্যালয় চত্বরকে সম্পূর্ণ ‘প্লাস্টিক মুক্ত অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করা হলো। এই উদ্যোগ স্থানীয় জনমানসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।


প্রতিবেদন ৩ : করমন্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার স্মৃতি ও বর্তমান রেল নিরাপত্তা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বালেশ্বর, ২১ জানুয়ারি ২০২৬: করমন্ডল এক্সপ্রেসের সেই ভয়াবহ ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনার স্মৃতি আজও ভারতবাসীর মনে এক গভীর ক্ষত হয়ে বিরাজ করছে। ওড়িশার বাহানাগা বাজারের সেই অভিশপ্ত রেল দুর্ঘটনা আমাদের রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটিগুলোকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল। কয়েকশো মানুষের অকাল মৃত্যু এবং হাজার হাজার পরিবারের হাহাকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। আজ সেই ঘটনার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও রেল সুরক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে রেল মন্ত্রক এই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে একগুচ্ছ নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ট্রেন দুর্ঘটনা এড়াতে ‘কবচ’ (Kavach) নামক এক বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রেনের সংঘর্ষ রোধ করতে সক্ষম। এছাড়া সিগন্যালিং ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এবং ইন্টারলকিং সিস্টেমে মানুষের ভুল কমানোর জন্য যান্ত্রিক পদ্ধতির ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত স্থান বাহানাগায় আজও একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষ ও নিহতদের পরিবার। সাধারণ যাত্রীদের দাবি— ট্রেনের গতি বাড়ানোর চেয়েও ভ্রমণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রেল কর্তৃপক্ষের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত।


মাধ্যমিক ২০২৬: প্রতিবেদন রচনার সেরা সাজেশন (Suggestion List)

উপরের ৩টি সমাধান ছাড়াও পরীক্ষার জন্য নিচের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তৈরি করবে:

  • ১. চন্দ্রযান-৩ এর সাফল্য এবং ভারতের মহাকাশ গবেষণায় নতুন যুগ।
  • ২. বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন।
  • ৩. মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে কিশোর মনে নেতিবাচক প্রভাব।
  • ৪. এলাকায় ডেঙ্গি প্রতিরোধে পুরসভার সাফাই অভিযান ও সচেতনতা।
  • ৫. রক্তদান শিবিরের গুরুত্ব নিয়ে একটি অভিজ্ঞতাভিত্তিক প্রতিবেদন।
  • ৬. ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত স্থানীয় বাজার: ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান।
  • ৭. কন্যাশ্রী বা সবুজ সাথী প্রকল্পের সুফল নিয়ে একটি বিদ্যালয় প্রতিবেদন।


প্রতিবেদন লেখার সময় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবে (Tips for Full Marks): ১. একটি আকর্ষণীয় ও জুতসই 'শিরোনাম' দিতে ভুলবে না। ২. শুরুতেই 'নিজস্ব সংবাদদাতা' এবং 'স্থান ও তারিখ' উল্লেখ করতে হবে। ৩. প্রতিবেদনটি হবে তথ্যনিষ্ঠ, এখানে ব্যক্তিগত আবেগ বা কল্পনার স্থান নেই। ৪. ১৫০ শব্দের মধ্যে লেখার চেষ্টা করবে।
আশা করি, এই গঠনমূলক আলোচনাটি তোমাদের মাধ্যমিক পরীক্ষায় সেরা নম্বর পেতে সাহায্য করবে। শুভকামনা রইল!

Study Notes PDF

Download this article for offline study

SPN EDTECH
Updates Courses Notes eBooks Login